স্মৃতিচারণ ১ : 

স্মৃতিচারণ ১ :
তখন আমার বয়স ৪ এর কাছাকাছি । প্রায় প্রতিদিন মাগরিবে মসজিদে নামাজে যেতাম । যদিও আমি একটু হাঁটা শিখার পর থেকেই আব্বু প্রতি নামাজে মসজিদে নিয়ে যেতেন শুনেছি । তখন আমি নামাজ পড়তাম না । পিছনে বসে নামাজ পড়া দেখতাম ।

আমাদের মসজিদে তখনো বিদ্যুৎ ছিল না । মসজিদের মাঝখানে একটা বড় পাখা ছিল যেটা বাশের সাথে বেধে রাখা ছিল – একটা দড়ি দিয়ে টানতে হতো । যখন অন্যপাশ ঘুড়ে এই পাশে পাখা আসত অনেক বাতাস হত । নামাজ শেষে আব্বু বন্ধুদের সাথে গল্প করতেন আমি সহ । ছোট ছিলাম বলে সবাই খুব স্নেহ করতেন। আমার খুব মন চাইত ঐ দড়ি ধরে আমি সবাইকে বাতাস করব ।কিন্তু সুযোগ পেতাম না । একদিন আব্বু খানিকটা ক্লান্ত হয়ে গেলে দড়ি টানা বদ্ধ রাখলেন । আমি দড়ি টানার জন্য দড়িতে হাত দিলাম । সবাই হেসে উঠল । আব্বু তখন বললেন ও তুমি সবাইকে বাতাস করবে ? আমি মাথা নাড়ালাম ।

আমি দড়ি ধরে কয়েকবার টান দিয়ে ক্লান্ত হয়ে গেলাম । খুব অল্পই বাতাস হল । কিন্তু সবাই অনেক বেশি খুশি হল ।

ব্যাথাময় মানব জনম

কতদিন হয়নি ঘুমানো নিশ্চিন্ত মনে ,
মনের কোনে ব্যাথার রেখা রয়েছে ছড়িয়ে ।
কতদিন ভাবনাগুলো হয়নি প্রাশান্ত ,
সপ্নগুলো হারিয়ে ফেলার কান্না রয়েছে জড়িয়ে ।

কতদিন বলো এই চোখগুলো তাকিয়ে থাকে দূরে –
শুষ্ক হয়ে গেছে বহু আগেই ,
ঠিক হৃদয়ের মত ।
কতকাল ধরে যে ঝিম ধরে পড়ে আছে কোন কোনে ,
একটুও শব্দ করে না ,
আগের মত আর স্পন্দিত হয়না , কিন্তু আগে
উচ্ছাস ছিল যে কত !

আহারে জীবন , ব্যাথাময় মানব জনম ।

– arifhasnat/dhaka/17.3.2018

গতিপথ

যে গতিপথ প্রভূর দেওয়া ,
হোক না তেমন যেমন তিনি চান ।
যে পৃথিবী দেয়নি কিছুই ,
শুধুই তারে দিলাম মনো-প্রান ।

যে গানে সব কান্না আসে ,
অন্তরেতে বাড়ায় দুখের বান ।
তপ্ত রোদে এমনি করে ,
কত ব্যাথায় নির্মিত বিরান ।

বিদায়

সব পাখি দিন শেষে নীড়ে আসে ফিরে
ঘরময় ভালোবাসা রয়েছে যে ঘিরে ।

কিছু পাখি দল ছেড়ে দূরে চলে যায়
জানেনি কেউ অবেলায় কেন এ বিদায় ।

[arifhansat/15.02.2017/1.40pm]

হারিয়ে ফেলা ভাষা

আগে মনে শান্তি ছিল
মুখে সদা হাসি ছিল
আরো কাব্যকথা।

এখন বুকে বেদনা অনেক
চোখের কোনেও জ্বলও খানিক,
আরো ছিন্ন ব্যাথা।

আগে একটা ডায়েরি ছিল,
পাতায় পাতায় ছড়া ছিল,
আরো দিপ্ত আশা ।

ডায়েরিটা আর পায়না খুজে
গুমট কথা চোখটা বুজে,
হারিয়ে ফেলা ভাষা ।

সেই থেকে আজ-অদ্যবধী,
ছন্দগুলো খুজে ফিরি,
হারিয়ে যাওয়ার ভিরে ।

প্রানান্তর এই চেষ্টা আমার
সপ্নগুলো কুড়িয়ে পাবার,
ভিড়তে নতুন তীরে।

[আরিফ হাসনাত
ফাস্ট-এইড,
৫,৪,২০১৫—11.45 am

হয়ত মনে রাখবে না কেউ

হয়ত মনে রাখবে না কেউ
যখন আমি থাকব না ,
কথাগুলো ঠিকি রবে
শুধুই আমি জাগব না ।

কিন্তু জানি সবার কথা
পড়বে মনে খুব করে্‌
হঠাৎ করে জেগে ঊঠা
মিষ্টি আজান ঐ ভোরে ।

আলতো করে পা বাড়িয়ে
ফেলে আসা দিনগুলো ,
কিংবা খুবি কষ্ট পেয়ে
চক্ষু বেয়ে জ্বল্গুলো ।

সপ্নে দেখা সোনালী দিন – ২

একদিন আমি স্থায়ীভাবে আমার গ্রামে চলে যাব । প্রথমেই আমি আমাকে সাজাব আমার মত করে ,একজন ভাল মানুষ হিসেবে , একজন ভালো মুসলিম হিসেবে ।

সবুজের মাঝে প্রতিদিন আমি হেঁটে যাব দিগন্তজুড়া প্রান্তরে , আকাশের দিকে চেয়ে বিরানভূমিতে আমি বাতাসের গন্ধ , মাটির গন্ধ শুঁকে শুঁকে চলে যাব অনেকদূর ।

মাঠের শেষ প্রান্তে একটি ২ তলা বাড়ি থাকবে ,টোটাল ৬/৭ ঘর থাকবে । ৩ টা রুম IT lab ও জিমনেশিয়াম ।
কিছুটা নিকটেই কৃষি খামার । বাড়ির ঠিক পাশে পাখিদের অভায়াশ্রম গ্রিনহাউজ ।

যেহেতু মাঝে মাঝেই ঢাকা আসা লাগবে সবকিছুই থাকবে প্রযুক্তি ভিত্তিক । প্রযুক্তিভিত্তিক বেশ কিছু বিজনেস গড়ে উঠবে । আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে নিবিড় গবেষণা থাকবে ল্যাবের বড় অংশের কাজ ।

একটি নৈতিকভাবে পরিমার্জিত সবচেয়ে অগ্রসর কিছু মানুষ দেখবে পৃথিবী ।

 

june 6, 2017.dhaka

চাওয়া

কোলাহল আমার ভালো লাগেনি কখনো,
জন-মানবহীন দিগন্ত জুরা খোলা প্রান্তে হেটে যেতে যেতে আমি আমার প্রভুর বিশালত্ব ঘোষনা করব ।
দৃষ্টির প্রতিটি প্রান্তে যে প্রভুর মহিমা ,
আমি তা দেখে সিজদায় অবনত হব ।

হয়ত খানিকটা সময় বসে জীবনের সব গুনাহ,র জন্য বিনিত হয়ে
আমার রবের নিকট আমি অশ্রু সিক্ত হয়ে ক্ষমা চেয়ে নিব ।

হয়ত আরো কাছাকাছি আসার তিব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়েই
আকাশ প্রান্তে চেয়ে চেয়ে চলে যাব আরো অনেক দূর ।

যেখানে নির্জনতা , যেখানে আমি , যেখানে আপনি
আমিতো যেতেই চাইব সেখানে বারে বার
অনেক কথা বলার বাকি র‍য়ে গেছে যে এখনো হে দয়াময় অপার ।

 

june,25,2017/dhaka

অবাক করা সাঁঝে

ফাগুন মাসের মিষ্টি হাওয়া উদাস করে দেয় ,
আলতো বাতাস কেমন যেন বার্তা বয়ে যায় ।

হঠাৎ করে অতীত যেন শুধুই মনে পড়ে ,
আমের মুকুল ভাবনা জাগায় কেন এমন করে !

এইতো সেদিন জীবন ছিল শুধুই চিন্তা ধারা
খেলার মাঝে কাটত দুপুর ,ছিলাম বাধন হারা ।

মাগরিবের ঐ আজান শুনে কাটত তবে বেলা
কেমন করে শেষ হল সব এত হাসির মেলা ।

আবার আমি ফিরে যাব আমার আপন মাঝে
মাদুর পেতে জ্যোৎস্না মাঝে অবাক করা সাঁঝে ।

[ARIF HASNAT – 12.2.17 / 12.43 AM ]

মিছে জীবন

life story

*কাল বাড়ি যাব , জানিনা কেন যাব ।
 
*প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে জেগে উঠি , কেন জাগলাম তার কোন অর্থই খুজে পাই না , তবু দিন শেষ হয় নতুন সকাল দেখি ।
 
* অফিস শেষে রুমে আসতে ৯ টার মত হয়ে যায় , গলির মসজিদটা অনেক রাত পর্যন্ত খোলাই থাকে ।কেউ থাকে না । নিস্তব্ধতা আমার খুবই প্রিয় ।
 
* অফিসে যাওয়ার সময় রিক্স করেই যায় , যদিও এজন্য ২০০ টাকার মত ভাড়া দিতে হয় কিন্তু আমি বই পড়তে পড়তে যায় । মাঝে মাঝে আকাশ দেখি , চোখ বন্ধ করে বাতাস অনুভব করি । জীবন সুন্দর ।
 
* আমার জীবনে আমি কিছু চেয়ে কোন দিন কিছুই পায়নি , এ নিয়ে আমার অভিযোগ নেই । ভাবি পেলেইবা কি হত । যে গতিপথ প্রভুর দেওয়া , যে ধারা আমার রবের দেওয়া , হোকনা তেমন যেমন তিনি চান ।
 
* আমি জানি আল্লাহ আমাকে একদিন অনেক টাকার মালিকানা করে দিবেন । আমি ২ টা কওমি মাদ্রাসা করব ইনশা- আল্লাহ । আমিই হব প্রথম ছাত্র ।
 
* চোখের ডাক্তার দেখিয়েছি , আগের চেয়ে চশমার পাওয়ার বেড়েছে । যদিও ভার্সিটিতে নিয়মিত পরতাম সখের বশেই । কেন যে বাদ দিয়েছি জানি না । এখন চোখ দিয়ে প্রায়ই পানি পড়ে ।
 
* ২০১৭ ছিল আমার ক্যালেন্ডার ময় । টার্গেট ও পুরন । ক্যারিয়ারের জন্য খুবি গুরুত্ব্যপুর্ন একটা বছর । সফতাও অনেক । অনেক সুযোগ এসে চলে গেছে কিন্তু অনেক সম্ভাবনার পথ তৈরি করে গেছে ।
২০১৭ আর পাব না ।
 
* ২০১৭ আমার হারানোরও বছর । আমি কত অযোগ্য তাও জেনেছি ।
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
***** মাঝে মাঝে খুবি কাঁদতে ইচ্ছা হয় , কাঁদি না । একদিন কাঁদব । অনেক অনেক । ভ্যাভ্যা করে কাঁদব । নোনা জ্বলে দেখব আমি হাসির ঝিলিক । *****