২১ রামাদান, ১৫-০৫-২০২০

কিছুক্ষণ আগেই ঝুম বৃষ্টি হয়ে গেছে। ঝিঝি পোকারা একটানা ডেকে চলেছে। একটু পরপর মেঘ গর্জন করে পুনরায় বৃষ্টির আভাস দিয়ে যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ নেই সন্ধ্যা থেকেই। চারিদিকে শুনশান নিরবতা, শুধু প্রকৃতির জেগে থাকা ছাড়া। ঝিঝি পোকার সাথে ব্যাঙয়ের দলও যোগ দিয়েছে, মাঝে মাঝে ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ শব্দ ভেসে আসছে।

আবহাওয়াটা বেশ ঠাণ্ডা তার উপড়ে মৃদু বাতাস। প্রকৃতির মায়াবী উপলন্ধি অনেকদিন পর পাওয়া যাচ্ছে। যদিও আমি প্রকৃতি-প্রেমী একজন মানুষ কিন্তু ব্যস্ততায় তার কমই উপলদ্ধি করা হয়।

এ বছরের রামাদান বাড়িতেই করার সুযোগ আল্লাহ্‌ সুব-হানাহু ওয়া তা’লা করে দিয়েছেন , তাও প্রায় ১০ বছর পর। যদিও মহামারী চারিদিকে কিন্তু এখন পর্যন্ত ভালো রেখেছেন আল্লাহ্‌ সুব-হানাহু ওয়া তা’লা।

প্রতিদিনের সবচেয়ে ভালো সময় আসে ইফতারের আগে তারপর তারাবীহর সময়র। খোলা আকাশের নিচে আমরা তারাবীহ আদায় করে থাকি, কখনো চাঁদ দেখি, আবার কখনো দমকা বাতাসের পরশে প্রাণ জুড়িয়ে যায়, মাঝে মাঝে আম পড়ে পায়ের কাছে চলে আসে। ভালোই লাগছে। জানিনা আর কখনো , কোনদিন এভাবে আর তারাবীহ পড়া হবে কিনা , কিন্তু স্মরণীয় হয়ে থাকবে নিশ্চয়।

আজকে ২১ রামাদানের রাত। শবে কদরের সম্ভাব্য রজনী। আল্লাহ্‌ সুব-হানাহু ওয়া তা’লার রহমত থেকে কখনো বঞ্চিত হয়নি, তাঁর দয়া জীবনজুড়ে। কখনোকি আমার রবকে দেখতে পাব? যে যোগ্যতা কি আছে?
কিন্তু তিনিতো রহমানির রহিম।

সেহেরির জন্য মসজিদ থেকে ডাক আসছে। মুয়াজ্জিনরা/ইমামরা অনেক কষ্ট করেন সারা রামাদান মাস। এ জন্যই হয়ত তাদের মর্জদা আল্লাহ্‌ বাড়িয়ে দিয়েছেন।

আজকে যদি শবে কদর হয়ে থাকে তাহলে আমি আল্লাহ্‌র কাছে প্রার্থনা করব পৃথিবীকে তিনি যেন অসীম করুণার চাদরে ঢেকে দেন।

একদিন হয়ত শান্ত পৃথিবী দেখতে পাব। মানুষে মানুষে হানাহানি নেই , নেই কোন হতাশা। সবাই আল্লাহ্‌ সুব-হানাহু ওয়া তা’লার দিকে ধাবমান। কে কত অগ্রসর সেই প্রতিযোগিতা। সেই দিনের অপেক্ষা ।